একজন ওয়েব ডেভেলপার আসলে কীভাবে ইনকাম করে?
উত্তরটা এক লাইনে দেওয়া সম্ভব না। লেভেলভেদে অনেক তারতম্য থাকে।
ইনকামের লেভেলগুলো ধাপে ধাপে আনলক হয়। ঠিক ভিডিও গেমের মতো।
চলুন দেখি, কোন স্টেজ কীভাবে কাজ করে 👇
⭐ লেভেল ১: ফুল-টাইম জব
অধিকাংশ ডেভেলপারের ক্যারিয়ার শুরু হয় এখান থেকেই। রিস্ক কম, ইনকাম ফিক্সড।
কোম্পানি আপনাকে মূলত হায়ার করে ছোটখাটো বাগ ফিক্সিং আর সিনিয়রদের হেল্প করার জন্য স্কিল বাড়লে স্যালারি তো বাড়েই, তার সাথে যোগ হয় প্রজেক্ট বোনাস আর পারফরমেন্স ইনসেনটিভ। এই লেভেলে আপনি শুধু কোড করবেন না, স্ট্রাটেজিক হবেন, টিমকে গাইড করবেন।
⭐ লেভেল ২: ফ্রিল্যান্সিং ও কনসালটেন্সি
যাদের ৯টা-৫টার রুটিন ভালো লাগে না, তারা এটা চুজ করেন।
ছোট ছোট গিগ দিয়ে শুরু। ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন, স্পিড অপটিমাইজেশন বা ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন। কাজ শেষ, পেমেন্ট ক্লিয়ার।
এক্সপার্ট হয়ে গেলে আর বিড করতে হবে না। ক্লায়েন্ট আপনাকে খুঁজবে প্রবলেম সলভ করার জন্য। ঘণ্টা হিসেবে পেমেন্ট করবে শুধু আপনার আর্কিটেকচার ডিজাইন বা টেকনিক্যাল পরামর্শের জন্য।
⭐ লেভেল ৩: দ্য স্পেশালিস্ট জোন
এখানে আপনি সাধারণ ডেভেলপার নন, একজন স্পেশালিস্ট। এদের রেট সাধারণের চেয়ে ১০ গুণ বেশি হয়।
• সিকিউরিটি ও পেনিট্রেশন টেস্টিং: বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইটের বাগ বা সিকিউরিটি হোল খুঁজে বের করতে হয় (Bug Bounty)। একেকটা মেজর বাগ রিপোর্টের জন্য গুগল/ফেসবুক হাজার হাজার ডলার পে করে।
• DevOps ও ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারিং: আপনি কোড লিখবেন না, বরং কোড রান করার সার্ভার ইনফ্রাস্ট্রাকচার (AWS, Docker, Kubernetes) ঠিক করবেন। বর্তমানে এটা বেশ ডিমান্ডিং একটা স্কিল!
• AI ইন্টিগ্রেশন: এখনকার হট টপিক! ওয়েবসাইটের মধ্যে AI মডেল ইন্টিগ্রেট করে দেওয়া। ফিচারগুলোকে আরও ইন্টারেক্টিভ করা। এই কাজের ডিমান্ড এখন আকাশচুম্বী।
⭐ লেভেল ৪: দ্য ফ্রন্টিয়ার (Web3 ও ব্লকচেইন)
এটা হলো ফিউচার টেক। রিস্ক আছে কিন্তু রিওয়ার্ডও বিশাল।
ইথিরিয়াম বা সোলানা নেটওয়ার্কে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট লিখে দেওয়া। DApps ও NFT এর মতো ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাপ বা এনএফটি মার্কেটপ্লেস বানিয়ে রয়্যালটি থেকে ইনকাম করা।
⭐ লেভেল ৫: ডিজিটাল অ্যাসেট
Build Once, Sell Forever।
একটা জবরদস্ত ড্যাশবোর্ড বা ই-কমার্স থিম বানিয়ে মার্কেটপ্লেসে ছেড়ে দিলেন। আপনি ঘুমাচ্ছেন, কিন্তু দুনিয়ার কোথাও না কোথাও কেউ আপনার থিম কিনছে।
স্পেসিফিক কোনো সমস্যার সমাধান করে একটা প্লাগিন বানাতে পারলে, সেটা সাবস্ক্রিপশন মডেলে সোনার ডিম পাড়া হাঁস হয়ে যেতে পারে।
⭐ লেভেল ৬: SaaS বিজনেস
ডেভেলপারদের আল্টিমেট ড্রিম। এখানে আপনি আর কোডার নন, একজন বিজনেস ওউনার।
আপনি একটা এপ্লিকেশন বানালেন, (যেমন: ছোট ব্যবসার জন্য ইনভয়েস মেকার), যা ব্যবহার করতে মানুষকে প্রতি মাসে টাকা দিতে হয়। আপনার কাজ শুধু সফটওয়্যারটা মেইনটেইন করা, আর মাস শেষে অটোমেটিক সাবস্ক্রিপশন ফি অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
⭐ লেভেল ৭: দ্য ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট (ইকুইটি ও শেয়ার)
এখানে টাকার চেয়ে ভ্যালু বেশি। সাধারণত স্টার্টআপ দুনিয়ায় এটা দেখা যায়।
• পার্টনারশিপ: আপনি হয়তো কোনো স্টার্টআপের টেকনিক্যাল কো-ফাউন্ডার বা সিটিও (CTO) হিসেবে জয়েন করলেন। শুরুর দিকে স্যালারি কম হতে পারে, কিন্তু আপনি কোম্পানির শেয়ার বা ইকুইটি (মালিকানা) পাবেন। ৫-১০ বছর পর সেই কোম্পানি সফল হলে, আপনার ওই শেয়ারের দাম কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে!
আপনি এখন কোন লেভেলে আছেন? পরের লেভেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তো?